ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার
আপনি কি কখনো ভেবেছেন কেন পুরুষদের জন্য স্বর্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ বলা হয়? বাংলাদেশে gold price in bd খুঁজতে গিয়ে অনেকেই এই প্রশ্নের সম্মুখীন হন। বিশেষ করে যখন আপনি দেখেন যে নারীরা স্বর্ণের অলংকার পরতে পারেন, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি হারাম।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে জানাব পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিয়ে ইসলামি শরিয়াহর সম্পূর্ণ বিধান। আপনি জানতে পারবেন:
- ইসলামে পুরুষের জন্য কতটুকু স্বর্ণ ব্যবহার করা জায়েয
- কোন ধরনের স্বর্ণ হারাম এবং কেন
- বিকল্প হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহার করা যায়
- বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহারের বিধান
এই গাইডটি পড়ার পর পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম কেন এই বিষয়ে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কী
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার বলতে মূলত বোঝায় পুরুষদের দ্বারা স্বর্ণের তৈরি যেকোনো জিনিস পরিধান করা বা ব্যবহার করা। এর মধ্যে রয়েছে:
- স্বর্ণের আংটি (Ring)
- স্বর্ণের চেইন বা নেকলেস
- স্বর্ণের ব্রেসলেট বা কাঁকন
- স্বর্ণের ঘড়ি
- স্বর্ণ দিয়ে তৈরি দাঁতের ক্যাপ বা ক্রাউন
ইসলামি শরিয়াহতে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এটি সরাসরি হালাল-হারামের সাথে সম্পর্কিত। নারী ও পুরুষের জন্য এই বিধান ভিন্ন।
স্বর্ণ ব্যবহারের সংজ্ঞা
শরিয়াহর দৃষ্টিতে স্বর্ণ ব্যবহার মানে হলো শরীরে ধারণ করা বা সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে স্বর্ণ পরিধান করা। শুধুমাত্র স্বর্ণ রাখা বা বিনিয়োগ করা এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহারের বিধান
ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ। এই বিধান কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা থেকে প্রমাণিত।
হাদিসের প্রমাণ
হযরত আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“স্বর্ণ ও রেশম আমার উম্মতের নারীদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।“
(তিরমিযী, নাসাঈ)
আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) একজন সাহাবীর হাতে স্বর্ণের আংটি দেখে বলেছিলেন:
“তুমি কি জাহান্নামের আগুনের টুকরা হাতে পরে আছ?”
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট যে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
চার মাজহাবের ঐকমত্য
হানাফী, মালিকী, শাফেয়ী এবং হাম্বলী – এই চারটি মাজহাবই এ বিষয়ে একমত যে:
- পুরুষদের জন্য স্বর্ণ পরিধান করা হারাম
- এতে কোনো মতভেদ নেই
- শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় রয়েছে
পুরুষদের স্বর্ণ ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত ধারণা
আমাদের সমাজে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। চলুন সেগুলো জেনে নেই:
ভুল ধারণা ১: অল্প পরিমাণ স্বর্ণ জায়েজ
অনেকে মনে করেন যে অল্প পরিমাণ স্বর্ণ, যেমন একটি ছোট আংটি পুরুষরা পরতে পারবে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল। পরিমাণ যাই হোক না কেন, পুরুষদের জন্য স্বর্ণ পরিধান করা হারাম।
ভুল ধারণা ২: সাদা স্বর্ণ (White Gold) জায়েজ
সাদা স্বর্ণ বা হোয়াইট গোল্ডও স্বর্ণের একটি রূপ। এটিও পুরুষদের জন্য হারাম। রঙের পরিবর্তনে বিধান পরিবর্তন হয় না।
ভুল ধারণা ৩: স্বর্ণ-মিশ্রিত ধাতু হালাল
কিছু লোক মনে করে যদি স্বর্ণের সাথে অন্য ধাতু মেশানো থাকে তাহলে তা ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু শরিয়াহর মতে, যদি অলংকারে স্বর্ণের পরিমাণ বেশি থাকে তবে তা হারাম।
সঠিক বিধান
ইসলামি স্কলারদের মতে:
- স্বর্ণের কোনো অংশ থাকলেই তা পুরুষদের জন্য হারাম
- শুধুমাত্র গোল্ড প্লেটিং বা অতি সামান্য স্বর্ণের আবরণ যদি থাকে, তাহলে কিছু আলেম ছাড় দিয়েছেন
- তবে সতর্কতার জন্য পুরোপুরি স্বর্ণমুক্ত ধাতু ব্যবহার করা উত্তম

কেন পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ বলা হয়
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম কেন – এই প্রশ্নের উত্তরে ইসলামি স্কলাররা কয়েকটি হিকমত (রহস্য) বর্ণনা করেছেন:
১. নারী-পুরুষের পার্থক্য বজায় রাখা
ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে স্বাভাবিক পার্থক্য বজায় রাখতে চায়। স্বর্ণের অলংকার নারীদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্ধারিত। পুরুষরা যদি তা পরিধান করে, তাহলে এই স্বাভাবিক পার্থক্য নষ্ট হয়।
২. অহংকার ও আত্মম্ভরিতা রোধ
স্বর্ণ একটি মূল্যবান ধাতু। পুরুষরা স্বর্ণ পরিধান করলে তা অহংকার ও প্রদর্শনেচ্ছার কারণ হতে পারে। ইসলাম পুরুষদের জন্য সরলতা ও বিনয় পছন্দ করে।
৩. নারীদের সাদৃশ্য এড়ানো
রাসুল (সা.) বলেছেন: “যে পুরুষ নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যে নারী পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে তাদের ওপর লা’নত।”
স্বর্ণ পরিধান করা নারীদের বৈশিষ্ট্য। পুরুষরা তা করলে নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়।
৪. সম্পদের অপচয় রোধ
স্বর্ণ অত্যন্ত দামী ধাতু। পুরুষদের জন্য এটি ব্যবহার করা অর্থের অপচয় হতে পারে। ইসলাম অপচয় নিষিদ্ধ করেছে এবং সম্পদ সঠিক খাতে ব্যয় করতে উৎসাহিত করে।
৫. আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য
সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ। মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো প্রশ্ন না করে মেনে নেওয়া।
কোন ধরনের স্বর্ণ পুরুষদের জন্য হারাম
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার এর ক্ষেত্রে সব ধরনের স্বর্ণই হারাম। নিচের টেবিলে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| স্বর্ণের ধরন | পুরুষের জন্য বিধান | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| হলুদ স্বর্ণ (Yellow Gold) | হারাম | সবচেয়ে সাধারণ স্বর্ণ, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |
| সাদা স্বর্ণ (White Gold) | হারাম | স্বর্ণের সাথে প্যালেডিয়াম মিশ্রিত, হারাম |
| গোলাপী স্বর্ণ (Rose Gold) | হারাম | স্বর্ণের সাথে কপার মিশ্রিত, হারাম |
| ২২ ক্যারেট স্বর্ণ | হারাম | উচ্চ বিশুদ্ধতার স্বর্ণ, হারাম |
| ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ | হারাম | মিশ্রিত স্বর্ণও হারাম |
| গোল্ড প্লেটিং | মতভেদ আছে | খুব পাতলা আবরণ, কিছু আলেম জায়েজ বলেছেন |
| স্বর্ণের দাঁত | বিশেষ অবস্থায় জায়েজ | চিকিৎসাগত প্রয়োজনে জায়েজ |
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
হলুদ স্বর্ণ: এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের স্বর্ণ এবং সব ধরনের অলংকারে ব্যবহৃত হয়। পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম।
সাদা ও গোলাপী স্বর্ণ: যদিও এগুলোর রঙ ভিন্ন, কিন্তু মূল উপাদান স্বর্ণ। তাই এগুলোও হারাম।
মিশ্রিত স্বর্ণ: যদি অলংকারে স্বর্ণের পরিমাণ ৫০% এর বেশি থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবে হারাম। ৫০% এর কম হলেও অধিকাংশ আলেম হারাম বলেছেন।
গোল্ড প্লেটিং: এটি নিয়ে মতভেদ আছে। কিছু আলেম বলেন যদি শুধু পাতলা আবরণ থাকে তবে জায়েজ। তবে সতর্কতার জন্য এড়িয়ে চলা উত্তম।
স্বর্ণ ছাড়া কোন ধাতু পুরুষদের জন্য অনুমোদিত
যেহেতু পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম, তাই বিকল্প হিসেবে অন্যান্য ধাতু ব্যবহার করা যায়। এখানে কিছু হালাল বিকল্প দেওয়া হলো:
১. রুপা (Silver)
রুপা পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ হালাল এবং সুন্নাহ সম্মত। রাসুল (সা.) নিজে রুপার আংটি পরতেন।
রুপা ব্যবহারের সীমা:
- একটি রুপার আংটি পরা সুন্নাহ
- ওজন সাড়ে চার মাশা (প্রায় ৪.৩৭৫ গ্রাম) এর বেশি না হওয়া উচিত
- অন্যান্য অলংকারে রুপা ব্যবহার নিয়ে মতভেদ আছে
২. স্টেইনলেস স্টিল (Stainless Steel)
আধুনিক যুগে স্টেইনলেস স্টিল খুবই জনপ্রিয়। এটি:
- টেকসই এবং মজবুত
- মরিচা পড়ে না
- সাশ্রয়ী মূল্যের
- পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ হালাল
৩. টাইটেনিয়াম (Titanium)
টাইটেনিয়াম একটি হালকা ও শক্তিশালী ধাতু। এটি:
- এলার্জি সৃষ্টি করে না
- অত্যন্ত টেকসই
- আধুনিক ডিজাইনে পাওয়া যায়
- হালাল এবং ব্যবহার করা যায়
৪. প্ল্যাটিনাম (Platinum)
প্ল্যাটিনাম নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। অধিকাংশ আলেম বলেন:
- এটি স্বর্ণের মতো নয়, তাই জায়েজ
- তবে এর দাম স্বর্ণের চেয়ে বেশি হওয়ায় কিছু আলেম নিরুৎসাহিত করেন
- সতর্কতার জন্য এড়িয়ে চলা ভালো
৫. তামা, পিতল ও ব্রোঞ্জ
এই সাধারণ ধাতুগুলোও ব্যবহার করা যায়:
- সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য
- বিভিন্ন ডিজাইনে পাওয়া যায়
- সম্পূর্ণ হালাল
পছন্দনীয় পদ্ধতি
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে ভালো হলো:
- রুপার আংটি পরা (সুন্নাহ)
- অন্যান্য অলংকার পরিহার করা
- সাদাসিধে জীবনযাপন করা
আরও পড়ুন:বিদেশ থেকে সোনা আনার নিয়ম ২০২৬
স্বর্ণের আংটি ও পুরুষদের ক্ষেত্রে শরিয়াহ দৃষ্টিভঙ্গি
স্বর্ণের আংটি পুরুষদের জন্য বিশেষভাবে হারাম। এই বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদিস রয়েছে।
হাদিসের দলিল
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন:
“রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন ব্যক্তির হাতে স্বর্ণের আংটি দেখে তা খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনের টুকরা নিয়ে নিজের হাতে পরিধান করতে চায়?”
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে স্বর্ণের আংটি পুরুষদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আংটির বিধান
- স্বর্ণের আংটি: সম্পূর্ণ হারাম, কোনো ছাড় নেই
- আংটিতে স্বর্ণের পাথর: হারাম
- স্বর্ণ-রুপার মিশ্রিত আংটি: যদি স্বর্ণের পরিমাণ বেশি হয়, তবে হারাম
বিয়ের আংটি (Wedding Ring)
পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিয়ের আংটি প্রচলিত। ইসলামি দৃষ্টিকোণে:
- বিয়ের আংটি পরা ইসলামি সুন্নাহর অংশ নয়
- যদি পরতেই হয়, তবে রুপা বা অন্য হালাল ধাতুর হতে হবে
- স্বর্ণের বিয়ের আংটি পুরুষদের জন্য হারাম
রুপা ও অন্যান্য ধাতুর আংটির ব্যবহার
রাসুল (সা.) রুপার আংটি পরতেন, যা পুরুষদের জন্য সুন্নাহ।
রুপার আংটির সুন্নাহ পদ্ধতি
আংটির ওজন:
- সর্বোচ্চ এক মিসকাল (প্রায় ৪.৩৭৫ গ্রাম)
- হানাফী মাজহাবে এর বেশি মাকরুহ
আংটি পরার আঙুল:
- ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে পরা উত্তম
- বাম হাতেও পরা যায়
- তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলে পরা মাকরুহ
আংটিতে পাথর:
- আংটিতে পাথর বা নকশা থাকতে পারে
- তবে সাদাসিধে আংটি বেশি পছন্দনীয়
- আকীক পাথরের আংটি বিশেষভাবে মুস্তাহাব
অন্যান্য ধাতুর আংটি
লোহা:
- লোহার আংটি পরা জায়েজ
- তবে রুপার চেয়ে কম পছন্দনীয়
স্টিল:
- আধুনিক স্টিলের আংটি জায়েজ
- টেকসই এবং সহজলভ্য
তামা ও পিতল:
- জায়েজ কিন্তু কম ব্যবহৃত
- চামড়ায় সবুজ দাগ ফেলতে পারে
চিকিৎসা বা বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহার বৈধ কি না
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার সাধারণত হারাম হলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ছাড় রয়েছে।
চিকিৎসাগত প্রয়োজন
স্বর্ণের দাঁত:
- দাঁত নষ্ট হলে স্বর্ণের ক্যাপ বা ক্রাউন ব্যবহার করা জায়েজ
- তবে অন্য বিকল্প (যেমন সিরামিক, পোরসেলিন) থাকলে সেগুলো ব্যবহার করা উত্তম
- হানাফী মাজহাবে দাঁতের ক্ষেত্রে স্বর্ণ ব্যবহার জায়েজ বলা হয়েছে
হাড় জোড়া দেওয়া:
- যদি শরীরের কোনো হাড় ভেঙে যায় এবং স্বর্ণ ছাড়া অন্য কোনো উপায় না থাকে
- তবে স্বর্ণ ব্যবহার করা জায়েজ
- তবে এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্যান্য বিকল্প আছে (টাইটেনিয়াম, স্টিল ইত্যাদি)
নাক কান জোড়া:
- যুদ্ধ বা দুর্ঘটনায় নাক বা কান কেটে গেলে
- স্বর্ণ দিয়ে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করা জায়েজ
- তবে অন্য বিকল্প উত্তম
শর্তাবলী
চিকিৎসাগত কারণে স্বর্ণ ব্যবহারের শর্ত:
১. প্রকৃত প্রয়োজন থাকতে হবে ২. অন্য কোনো বিকল্প না থাকতে হবে ৩. সৌন্দর্যের জন্য নয়, শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য ৪. যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করা
আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি
বর্তমানে স্বর্ণের বিকল্প হিসেবে পাওয়া যায়:
- টাইটেনিয়াম ইমপ্লান্ট: হাড় ও দাঁতের জন্য
- সিরামিক ক্রাউন: দাঁতের জন্য
- স্টেইনলেস স্টিল: হাড় জোড়ার জন্য
এই বিকল্পগুলো থাকায় এখন স্বর্ণ ব্যবহারের প্রয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে।
বিভিন্ন মাজহাব অনুযায়ী পুরুষের স্বর্ণ ব্যবহারের মতামত
চার মাজহাবেই পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম বলে ঐকমত্য রয়েছে। তবে কিছু বিস্তারিত বিষয়ে সামান্য পার্থক্য আছে:
হানাফী মাজহাব
মূল বিধান:
- পুরুষদের জন্য স্বর্ণ পরিধান করা হারাম
- স্বর্ণ দিয়ে তৈরি যেকোনো অলংকার নিষিদ্ধ
বিশেষ বিধান:
- দাঁতের ক্ষেত্রে স্বর্ণ ব্যবহার জায়েজ
- নাক-কান জোড়ার ক্ষেত্রে জায়েজ
- রুপার আংটি এক মিসকালের বেশি মাকরুহ
মালিকী মাজহাব
মূল বিধান:
- স্বর্ণ পরিধান কঠোরভাবে হারাম
- কোনো ধরনের ছাড় নেই সৌন্দর্যের জন্য
বিশেষ বিধান:
- শুধুমাত্র জরুরী চিকিৎসায় জায়েজ
- স্বর্ণ-রুপার মিশ্রণে যদি স্বর্ণ বেশি হয় তবে হারাম
শাফেয়ী মাজহাব
মূল বিধান:
- স্বর্ণের ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম
- ছোট-বড় যেকোনো পরিমাণ নিষিদ্ধ
বিশেষ বিধান:
- প্রয়োজনে দাঁত ও হাড়ের ক্ষেত্রে জায়েজ
- তলোয়ার বা অস্ত্রে স্বর্ণের কাজ নিয়ে মতভেদ আছে
হাম্বলী মাজহাব
মূল বিধান:
- স্বর্ণ ব্যবহার হারাম ও কবীরা গুনাহ
- এতে কোনো ছাড় নেই
বিশেষ বিধান:
- চিকিৎসাগত জরুরী প্রয়োজনে জায়েজ
- তবে বিকল্প থাকলে তা ব্যবহার করা ওয়াজিব
মাজহাবগুলোর ঐকমত্য
সব মাজহাবই একমত যে: ১. স্বর্ণ পরিধান করা পুরুষদের জন্য হারাম ২. শুধু প্রয়োজনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ছাড় আছে ৩. রুপার আংটি জায়েজ ও সুন্নাহ
আরও পড়ুন:সোনার গয়না পরিষ্কার করার উপায়
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ও বিকল্প ধাতুর তুলনা
আপনি যদি gold price in bd খুঁজে থাকেন, তবে এখানে একটি তুলনামূলক টেবিল দেওয়া হলো:
| ধাতু | প্রতি ভরি দাম (আনুমানিক) | টেকসই মান | শরিয়াহ বিধান (পুরুষ) |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট স্বর্ণ | ১,১৫,০০০ – ১,২০,০০০ টাকা | উচ্চ | হারাম |
| রুপা (সিলভার) | ১,৮০০ – ২,২০০ টাকা | মাঝারি | হালাল (সুন্নাহ) |
| স্টেইনলেস স্টিল | ৫০০ – ২,০০০ টাকা (ডিজাইন অনুযায়ী) | খুব উচ্চ | হালাল |
| টাইটেনিয়াম | ৩,০০০ – ৮,০০০ টাকা | খুব উচ্চ | হালাল |
| প্ল্যাটিনাম | ১,২৫,০০০ – ১,৩৫,০০০ টাকা | সর্বোচ্চ | মতভেদ আছে |
বিকল্প ধাতুর সুবিধা
রুপা:
- সুন্নাহ সম্মত
- সাশ্রয়ী মূল্য
- সহজলভ্য
- ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য
স্টিল:
- খুবই সাশ্রয়ী
- মরিচা পড়ে না
- রক্ষণাবেক্ষণ সহজ
- আধুনিক ডিজাইন
টাইটেনিয়াম:
- হালকা ওজন
- এলার্জি সৃষ্টি করে না
- অত্যন্ত মজবুত
- দীর্ঘস্থায়ী
পুরুষদের জন্য অলংকার ব্যবহারের ইসলামি শিষ্টাচার
ইসলাম পুরুষদের জন্য সাদাসিধে জীবনযাপন উৎসাহিত করে। অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু শিষ্টাচার:
যা করা উচিত
১. রুপার আংটি পরা: এটি সুন্নাহ এবং বরকতময় ২. সাদাসিধে থাকা: অতিরিক্ত সাজসজ্জা পরিহার করা ৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ৪. ভালো পোশাক পরা: পরিপাটি ও শালীন পোশাক পরিধান করা
যা করা উচিত নয়
১. স্বর্ণ পরিধান: কোনো অবস্থাতেই নয় ২. নারীদের অনুকরণ: নারীসুলভ অলংকার পরিহার ৩. অহংকার প্রদর্শন: দামী ধাতু দিয়ে অহংকার করা ৪. অপচয়: অতিরিক্ত অলংকার কেনা
সুন্নাহ পদ্ধতি
- একটি রুপার আংটি যথেষ্ট
- ঘড়ি পরা জায়েজ (স্বর্ণের নয়)
- সুগন্ধি ব্যবহার করা (সুন্নাহ)
- পরিপাটি চুল ও দাড়ি রাখা
আরও দেখুন: আজকের সোনার দাম।gold price in bd
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. পুরুষের জন্য কতটুকু স্বর্ণ ব্যবহার করা জায়েয?
পুরুষের জন্য কোনো পরিমাণ স্বর্ণ পরিধান করা জায়েজ নয়। ছোট বা বড় যেকোনো পরিমাণ স্বর্ণের অলংকার পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। শুধুমাত্র চিকিৎসাগত জরুরী প্রয়োজনে (যেমন দাঁতের ক্যাপ, হাড় জোড়া) ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে বিকল্প থাকলে সেটাই উত্তম।
২. স্বর্ণের ঘড়ি কি পুরুষরা পরতে পারবে?
না, স্বর্ণের ঘড়ি পুরুষদের জন্য হারাম। তবে স্টিল, টাইটেনিয়াম বা অন্য ধাতুর ঘড়ি পরা সম্পূর্ণ জায়েজ। এমনকি গোল্ড প্লেটেড ঘড়িও পরিহার করা উত্তম।
৩. বিয়ের আংটি পরা কি জরুরী? স্বর্ণের হলে কী করব?
ইসলামে বিয়ের আংটি পরা জরুরী নয় এবং এটি সুন্নাহরও অংশ নয়। যদি সাংস্কৃতিক কারণে পরতে চান, তবে রুপা বা অন্য হালাল ধাতুর আংটি পরুন। স্বর্ণের আংটি কোনো অবস্থাতেই পরা যাবে না।
৪. সাদা স্বর্ণ (White Gold) কি পুরুষদের জন্য জায়েজ?
না, সাদা স্বর্ণও স্বর্ণের একটি ধরন এবং পুরুষদের জন্য হারাম। রঙ বা বাহ্যিক চেহারা পরিবর্তনে বিধান পরিবর্তন হয় না। স্টিল বা সিলভার হলো হালাল বিকল্প।
৫. পুরুষদের জন্য কোন ধাতুর আংটি সবচেয়ে ভালো?
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।







2 Comments