সাদা সোনা কাকে বলে এবং কীভাবে তৈরি হয়
আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে সাদা সোনা আসলে কী? গয়নার দোকানে যখন আপনি সাদা রঙের ঝকঝকে সোনার গয়না দেখেন, তখন কি মনে প্রশ্ন জাগে না যে এটি হলুদ সোনা থেকে কীভাবে আলাদা?
বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সাদা সোনার গয়না অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে বিয়ের আংটি, নেকলেস এবং ব্রেসলেট তৈরিতে সাদা সোনা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে সাদা সোনা আসলে কী, কীভাবে তৈরি হয় এবং এটি সাধারণ সোনা থেকে কতটা আলাদা।
এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন সাদা সোনা কাকে বলে, এর উৎপাদন প্রক্রিয়া, হলুদ সোনার সাথে পার্থক্য এবং সাদা সোনার গয়না কেনার আগে আপনার কী কী জানা উচিত। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।
সাদা সোনা কাকে বলে
সাদা সোনা হলো বিশুদ্ধ সোনার সাথে অন্যান্য সাদা রঙের ধাতু মিশিয়ে তৈরি একটি সংকর ধাতু বা অ্যালয়। প্রকৃতিতে সোনা শুধুমাত্র হলুদ রঙের পাওয়া যায়, তাই সাদা রঙ তৈরি করতে এতে বিশেষ ধাতু মেশানো হয়।
সাধারণত ১৮ ক্যারেট বা ১৪ ক্যারেট সোনার সাথে নিকেল, প্যালাডিয়াম, বা প্লাটিনাম জাতীয় ধাতু মিশিয়ে এই সাদা রঙ তৈরি করা হয়। এরপর এর উপর রোডিয়াম প্লেটিং করা হয় যাতে গয়নাটি আরও উজ্জ্বল ও টেকসই হয়।
মূল কথায়: সাদা সোনা মানে বিশুদ্ধ সোনার সাথে সাদা ধাতুর মিশ্রণ, যা দেখতে রুপা বা প্লাটিনামের মতো সাদা।
সাদা সোনা শব্দটির অর্থ ও ধারণা
“সাদা সোনা” শব্দটি দুটি ভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়:
১. গয়নার ক্ষেত্রে
গয়না শিল্পে সাদা সোনা বলতে বোঝায় সোনার তৈরি সেই সংকর ধাতু যা দেখতে সাদা রঙের হয়। এটি মূলত ফ্যাশন এবং আধুনিক ডিজাইনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
২. কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে
কখনও কখনও তুলা, লিচু বা অন্যান্য মূল্যবান কৃষিপণ্যকেও “সাদা সোনা” বলা হয়। তবে এই আর্টিকেলে আমরা মূলত গয়নার সাদা সোনা নিয়ে আলোচনা করছি।
বর্তমানে বাজারে সাদা সোনার চাহিদা বাড়ছে কারণ:
- এটি দেখতে আধুনিক ও স্টাইলিশ
- হলুদ সোনার চেয়ে কম চোখে পড়ে
- হীরা ও অন্যান্য রত্নপাথরের সাথে মানানসই
সাদা সোনা কীভাবে তৈরি করা হয়
সাদা সোনা তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ বৈজ্ঞানিক এবং কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। চলুন জেনে নিই সাদা সোনা উৎপাদনের উপায়:
ধাপ ১: বিশুদ্ধ সোনা নির্বাচন
প্রথমে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনা নেওয়া হয়। এটি খুবই নরম এবং গয়না তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়।
ধাপ ২: সাদা ধাতু মিশ্রণ
বিশুদ্ধ সোনার সাথে নিম্নলিখিত ধাতুগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো হয়:
- প্যালাডিয়াম (সবচেয়ে জনপ্রিয়)
- নিকেল (সস্তা কিন্তু এলার্জির কারণ হতে পারে)
- প্লাটিনাম (সবচেয়ে দামি)
- জিংক এবং কপার (অল্প পরিমাণে)
ধাপ ৩: গলানো ও ঢালাই
উচ্চ তাপমাত্রায় সব ধাতু একসাথে গলিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর এটিকে বিশেষ ছাঁচে ঢেলে গয়নার আকৃতি দেওয়া হয়।
ধাপ ৪: পলিশিং
গয়নাটি মসৃণ ও ঝকঝকে করার জন্য বিশেষ যন্ত্র দিয়ে পলিশ করা হয়।
ধাপ ৫: রোডিয়াম প্লেটিং
সবশেষে গয়নার উপর একটি পাতলা রোডিয়াম স্তর প্রয়োগ করা হয়। এটি সাদা রঙকে আরও উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী করে।
মনে রাখবেন: রোডিয়াম প্লেটিং সময়ের সাথে ক্ষয় হতে পারে, তাই পুনরায় প্লেটিং প্রয়োজন হয়।
সাদা সোনায় কোন কোন ধাতু মেশানো থাকে
সাদা সোনা তৈরিতে ব্যবহৃত ধাতুগুলো এবং তাদের অনুপাত গয়নার গুণমান নির্ধারণ করে। নিচের টেবিলে বিভিন্ন ক্যারেটের সাদা সোনায় ধাতুর সংমিশ্রণ দেখানো হলো:
| ক্যারেট | বিশুদ্ধ সোনা (%) | প্যালাডিয়াম (%) | রুপা (%) | কপার/জিংক (%) | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৮ ক্যারেট | ৭৫% | ১৫-২০% | ৫-১০% | ৫% | উচ্চ মানের, টেকসই |
| ১৪ ক্যারেট | ৫৮.৩% | ২০-২৫% | ১০-১৫% | ৭% | সাশ্রয়ী, শক্ত |
| ১০ ক্যারেট | ৪১.৭% | ২৫-৩০% | ১৫-২০% | ১০% | সবচেয়ে সস্তা, কম টেকসই |
প্রধান ধাতুগুলোর ভূমিকা:
১. প্যালাডিয়াম
- সাদা রঙ তৈরিতে সবচেয়ে কার্যকর
- হাইপোঅ্যালার্জেনিক (এলার্জি সৃষ্টি করে না)
- দামি কিন্তু উন্নত মানের
২. নিকেল
- সস্তা বিকল্প
- অনেকের ত্বকে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে
- ইউরোপসহ অনেক দেশে নিষিদ্ধ
৩. রুপা
- সাদা রঙে অবদান রাখে
- নরমত্ব কমায়
৪. কপার ও জিংক
- গয়নার শক্তি বৃদ্ধি করে
- সোনার রঙে হালকা প্রভাব ফেলে
আরও পড়ুন:Gold price in bd blog
সাদা সোনা ও হলুদ সোনার পার্থক্য
অনেকে মনে করেন সাদা সোনা হলুদ সোনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু মূল উপাদান একই – বিশুদ্ধ সোনা। পার্থক্য শুধুমাত্র মিশ্রিত ধাতুতে।
মূল পার্থক্যগুলো:
| বৈশিষ্ট্য | সাদা সোনা | হলুদ সোনা |
|---|---|---|
| রঙ | সাদা/রুপালী | হলুদ/সোনালী |
| মিশ্রিত ধাতু | প্যালাডিয়াম, নিকেল, প্লাটিনাম | কপার, জিংক, রুপা |
| প্লেটিং | রোডিয়াম প্লেটিং প্রয়োজন | প্রয়োজন নেই |
| রক্ষণাবেক্ষণ | মাঝে মাঝে রি-প্লেটিং দরকার | সহজ রক্ষণাবেক্ষণ |
| দাম | সামান্য বেশি | তুলনামূলক কম |
| জনপ্রিয়তা | আধুনিক ডিজাইনে জনপ্রিয় | ঐতিহ্যবাহী পছন্দ |
কোনটি বেছে নেবেন?
সাদা সোনা নিন যদি:
- আপনি আধুনিক ও স্টাইলিশ ডিজাইন পছন্দ করেন
- হীরা বা সাদা পাথরের গয়না চান
- ত্বকে হালকা রঙ মানানসই
হলুদ সোনা নিন যদি:
- ঐতিহ্যবাহী গয়না পছন্দ করেন
- কম রক্ষণাবেক্ষণ চান
- দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে রাখতে চান
সাদা সোনার ক্যারেট ও মান নির্ধারণ
ক্যারেট হলো সোনার বিশুদ্ধতা মাপার একক। ২৪ ক্যারেট মানে ১০০% বিশুদ্ধ সোনা। সাদা সোনায় সাধারণত ১৮K, ১৪K বা ১০K ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন ক্যারেটের বৈশিষ্ট্য:
১৮ ক্যারেট সাদা সোনা:
- ৭৫% বিশুদ্ধ সোনা
- উচ্চ মানের ও দীর্ঘস্থায়ী
- বিয়ের আংটির জন্য সেরা
- দাম তুলনামূলক বেশি
১৪ ক্যারেট সাদা সোনা:
- ৫৮.৩% বিশুদ্ধ সোনা
- শক্ত ও টেকসই
- দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত
- মধ্যম দামে পাওয়া যায়
১০ ক্যারেট সাদা সোনা:
- ৪১.৭% বিশুদ্ধ সোনা
- সবচেয়ে শক্ত
- সবচেয়ে সস্তা
- কম মূল্যের গয়নায় ব্যবহৃত
মান নির্ধারণের উপায়:
১. হলমার্ক চেক করুন – গয়নায় ৩৭৫, ৫৮৫ বা ৭৫০ সংখ্যা থাকবে ২. ওজন নিশ্চিত করুন – সঠিক ওজন মাপা জরুরি ৩. রোডিয়াম প্লেটিং – ভালো মানের গয়নায় সমান প্লেটিং থাকবে ৪. বিশ্বস্ত দোকান – পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন
সাদা সোনার রঙ কেন সাদা হয়
অনেকে প্রশ্ন করেন যে সোনা তো হলুদ রঙের, তাহলে এটি সাদা হয় কীভাবে? উত্তরটি আসলে রসায়নে লুকিয়ে আছে।
সাদা রঙ তৈরির বিজ্ঞান:
১. ধাতব সংমিশ্রণ: বিশুদ্ধ সোনার সাথে যখন প্যালাডিয়াম, প্লাটিনাম বা নিকেলের মতো সাদা ধাতু মেশানো হয়, তখন সোনার হলুদ রঙ হালকা হয়ে যায়। এই মিশ্রণটি হালকা ধূসর বা ক্রিম রঙের হয়।
২. রোডিয়াম প্লেটিং: মিশ্রণের পরেও গয়না পুরোপুরি সাদা হয় না। তাই এর উপর রোডিয়াম নামক একটি অত্যন্ত সাদা ও উজ্জ্বল ধাতুর পাতলা আস্তরণ দেওয়া হয়। এটিই গয়নাকে ঝকঝকে সাদা করে।
৩. আলোর প্রতিফলন: রোডিয়াম খুব ভালোভাবে আলো প্রতিফলিত করে, যার ফলে গয়না আরও উজ্জ্বল দেখায়।
রঙ হারানোর কারণ:
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে রোডিয়াম প্লেটিং ক্ষয় হয়
- তখন নিচের হালকা হলুদাভ সংকর ধাতু দেখা যায়
- পুনরায় প্লেটিং করালে আবার সাদা হয়

রোডিয়াম প্লেটিং কী এবং কেন করা হয়
রোডিয়াম হলো প্লাটিনাম পরিবারের একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও বিরল ধাতু। এটি রূপালী-সাদা রঙের এবং খুবই উজ্জ্বল।
রোডিয়াম প্লেটিং কেন করা হয়:
১. উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি: রোডিয়াম অত্যন্ত চকচকে এবং হীরার মতো আলো প্রতিফলিত করে। এটি গয়নাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
২. সুরক্ষা প্রদান: রোডিয়াম খুবই শক্ত ধাতু। এটি গয়নাকে:
- আঁচড় থেকে রক্ষা করে
- মরিচা পড়া রোধ করে
- দাগ ও ময়লা থেকে সুরক্ষা দেয়
৩. এলার্জি প্রতিরোধ: যদি সাদা সোনায় নিকেল থাকে, রোডিয়াম প্লেটিং ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ রোধ করে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
৪. রঙ ধরে রাখা: সাদা সোনার প্রকৃত রঙ হালকা হলুদাভ। রোডিয়াম প্লেটিং এটিকে পুরোপুরি সাদা করে।
রোডিয়াম প্লেটিং কতদিন টেকে:
- নিয়মিত ব্যবহারে: ১-২ বছর
- মাঝেমধ্যে ব্যবহারে: ৩-৫ বছর
- সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে: আরও বেশি
পুনরায় প্লেটিং:
- খরচ সাধারণত ৫০০-১৫০০ টাকা
- ১-২ দিনে কাজ সম্পন্ন হয়
- বছরে একবার করালে ভালো
সাদা সোনার গয়নার সুবিধা
সাদা সোনার জনপ্রিয়তার পেছনে অনেক কারণ আছে। চলুন জেনে নিই প্রধান সুবিধাগুলো:
১. আধুনিক ও স্টাইলিশ চেহারা
সাদা সোনা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং সমসাময়িক। এটি যেকোনো পোশাকের সাথে মানানসই।
২. হীরা ও রত্নপাথরের সাথে মিল
- হীরার সাদা ঔজ্জ্বল্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে
- রঙিন পাথরও ভালো দেখায়
- পাথরের রঙ স্পষ্ট হয়
৩. বহুমুখী ব্যবহার
- অফিস, পার্টি, বিয়ে – সব জায়গায় পরা যায়
- ফর্মাল ও ক্যাজুয়াল দুই স্টাইলেই মানানসই
- বিভিন্ন ত্বকের রঙে মানায়
৪. টেকসই ও শক্ত
মিশ্রিত ধাতুর কারণে সাদা সোনা বিশুদ্ধ সোনার চেয়ে শক্ত এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
৫. প্লাটিনামের সস্তা বিকল্প
দেখতে প্লাটিনামের মতো হলেও দাম অনেক কম। যারা প্লাটিনাম কিনতে পারেন না, তাদের জন্য সেরা অপশন।
৬. এলার্জি কম
প্যালাডিয়াম মিশ্রিত সাদা সোনা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিরাপদ।
৭. পুনর্বিক্রয় মূল্য
সোনা থাকায় এর পুনর্বিক্রয় মূল্য আছে। হলুদ সোনার মতোই মূল্য পাবেন।
সাদা সোনার গয়নার অসুবিধা
যেকোনো জিনিসেরই ভালো-মন্দ দুই দিক থাকে। সাদা সোনার কিছু সীমাবদ্ধতা জেনে রাখা জরুরি:
১. রোডিয়াম প্লেটিং ক্ষয়
- সময়ের সাথে প্লেটিং নষ্ট হয়
- গয়না হলুদাভ দেখাতে শুরু করে
- নিয়মিত রি-প্লেটিং প্রয়োজন (অতিরিক্ত খরচ)
২. রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা
- বিশেষ যত্ন নিতে হয়
- কঠোর রাসায়নিক এড়াতে হয়
- নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয়
৩. নিকেলজনিত এলার্জি
কম দামের সাদা সোনায় নিকেল থাকলে অনেকের:
- চুলকানি হতে পারে
- ত্বক লাল হতে পারে
- ফুসকুড়ি হতে পারে
৪. তুলনামূলক বেশি দাম
একই ক্যারেটের হলুদ সোনার চেয়ে সাদা সোনা কিছুটা দামি কারণ:
- প্যালাডিয়াম/প্লাটিনাম মেশানো হয়
- রোডিয়াম প্লেটিং খরচ
৫. প্রকৃত রঙ নয়
সাদা সোনা মূলত হালকা হলুদ। রোডিয়াম ছাড়া পুরোপুরি সাদা নয়।
৬. ওজন হ্রাস
বারবার পলিশ ও রি-প্লেটিং এ সামান্য ওজন কমতে পারে।
৭. ঐতিহ্যগত আবেদন কম
বাংলাদেশে অনেকে এখনও হলুদ সোনাকেই “আসল সোনা” মনে করেন।
সাদা সোনা কি আসল সোনা
এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যা অনেকেই জানতে চান। সংক্ষেপে উত্তর হলো: হ্যাঁ, সাদা সোনা আসল সোনা।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
১. সোনার উপাদান আছে: ১৮ ক্যারেট সাদা সোনায় ৭৫% বিশুদ্ধ সোনা থাকে, যা ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনার সমান।
২. শুধু রঙ আলাদা: হলুদ ও সাদা সোনার মধ্যে পার্থক্য শুধু মিশ্রিত ধাতুতে। মূল সোনা একই।
৩. হলমার্ক প্রমাণিত: সাদা সোনায়ও হলমার্ক থাকে যা এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে।
৪. পুনর্বিক্রয় মূল্য আছে: সোনার দোকানে সাদা সোনা বিক্রি করলে সোনার ওজন অনুযায়ী টাকা পাবেন।
তবে মনে রাখবেন:
- রোডিয়াম প্লেটিং এর ওজন সোনার ওজনে গণনা হয় না
- বিক্রয়ের সময় প্লেটিং সরিয়ে ওজন করা হতে পারে
- কিছু দোকান সাদা সোনা কিনতে নাও চাইতে পারে
আসল না নকল চেনার উপায়:
১. এসিড টেস্ট – স্বর্ণকারের দোকানে করান ২. ম্যাগনেট টেস্ট – সোনা চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না ৩. হলমার্ক দেখুন – অবশ্যই চেক করুন ৪. ওজন মাপুন – সোনা ভারী হয়
সুতরাং বলা যায়, সাদা সোনা সম্পূর্ণ আসল সোনা, শুধু রঙ ও মিশ্রণ আলাদা।
প্লাটিনাম ও সাদা সোনার পার্থক্য
অনেকে সাদা সোনা ও প্লাটিনাম একই মনে করেন। কিন্তু এদের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে।
মূল পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | প্লাটিনাম | সাদা সোনা |
|---|---|---|
| মূল ধাতু | ১০০% প্লাটিনাম (৯৫%+) | ৪২-৭৫% সোনা + অন্যান্য ধাতু |
| রঙ | প্রাকৃতিকভাবে সাদা | মিশ্রণে সাদা + রোডিয়াম প্লেটিং |
| ঘনত্ব | অনেক ভারী | তুলনামূলক হালকা |
| দাম | অনেক বেশি (৩-৪ গুণ) | মধ্যম |
| রক্ষণাবেক্ষণ | খুবই কম | নিয়মিত রি-প্লেটিং প্রয়োজন |
| এলার্জি | একেবারেই নেই | নিকেল থাকলে সম্ভব |
| স্থায়িত্ব | অত্যন্ত টেকসই | টেকসই কিন্তু প্লেটিং ক্ষয় হয় |
| পুনর্বিক্রয় মূল্য | উচ্চ | সোনার দাম অনুযায়ী |
কোনটি বেছে নেবেন:
প্লাটিনাম নিন যদি:
- বাজেট বেশি থাকে
- সংবেদনশীল ত্বক হয়
- দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ চান
- রক্ষণাবেক্ষণমুক্ত গয়না চান
সাদা সোনা নিন যদি:
- সাশ্রয়ী দামে স্টাইলিশ গয়না চান
- প্লাটিনামের লুক চান কম দামে
- নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন
মজার তথ্য:
প্লাটিনাম এতটাই বিরল যে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্লাটিনাম খনন করা হয়েছে, তা একটি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলে ধরবে। কিন্তু একই পরিমাণ সোনা তিনটি পুল ভরবে!
লেখকের শেষ কথা
সাদা সোনা কাকে বলে এবং এর সাথে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আজকের এই বিস্তারিত আলোচনা আশা করি আপনার জন্য সহায়ক হয়েছে।
মনে রাখবেন, সাদা সোনা আসল সোনারই একটি রূপ – শুধু মিশ্রণ ও রঙে আলাদা। এটি আধুনিক, স্টাইলিশ এবং বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য একটি চমৎকার অপশন।
কেনার আগে যা মনে রাখবেন:
✓ অবশ্যই হলমার্ক চেক করুন
✓ ক্যারেট সঠিক আছে কিনা যাচাই করুন
✓ রোডিয়াম প্লেটিং এর মান দেখুন
✓ বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন
✓ বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড রাখুন
✓ পুনরায় প্লেটিং সেবা জেনে নিন
সাদা সোনা হলুদ সোনার মতোই মূল্যবান এবং বিনিয়োগযোগ্য। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এটি দীর্ঘদিন আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।
আপনার কি সাদা সোনা সম্পর্কে আরও কোনো প্রশ্ন আছে? নিচে কমেন্ট করে জানান। এই আর্টিকেল উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও জানতে পারে।
ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য। সোনার দাম ও গয়না সম্পর্কিত আরও আপডেট তথ্যের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন!
আরও দেখুন:আজকের সোনার লাইভ দাম
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সাদা সোনা কি বিশুদ্ধ সোনা?
না, সাদা সোনা বিশুদ্ধ সোনা নয়। এটি বিশুদ্ধ সোনার সাথে প্যালাডিয়াম, নিকেল বা প্লাটিনামের মিশ্রণ। ১৮ ক্যারেট সাদা সোনায় ৭৫% সোনা এবং ২৫% অন্যান্য ধাতু থাকে।
২. সাদা সোনার দাম কি হলুদ সোনার চেয়ে বেশি?
হ্যাঁ, সামান্য বেশি। কারণ এতে দামি ধাতু যেমন প্যালাডিয়াম মেশানো হয় এবং রোডিয়াম প্লেটিং করতে হয়। তবে পার্থক্য খুব বেশি নয়।
৩. রোডিয়াম প্লেটিং কতদিন পর করাতে হয়?
নিয়মিত ব্যবহারে প্রতি ১-২ বছরে একবার রোডিয়াম প্লেটিং করাতে হয়। যদি মাঝেমধ্যে পরেন, তাহলে ৩-৫ বছর টিকবে।
৪. সাদা সোনা কি এলার্জি সৃষ্টি করে?
প্যালাডিয়াম মিশ্রিত সাদা সোনা সাধারণত এলার্জি করে না। তবে নিকেল মিশ্রিত সাদা সোনা সংবেদনশীল ত্বকে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। কেনার সময় অবশ্যই জেনে নিন।
৫. সাদা সোনা ও প্লাটিনাম কীভাবে আলাদা করবো?
প্লাটিনাম অনেক ভারী এবং এর ভেতরে হলমার্কে ‘PT’ বা ‘950’ লেখা থাকে। সাদা সোনায় ‘585’ বা ‘750’ লেখা থাকে। প্লাটিনাম প্রাকৃতিকভাবে সাদা, রি-প্লেটিং লাগে না।







3 Comments